কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
এই লেখায় আমরা জানব—
সেহরিতে পানি খাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি কী, কেন একসাথে বেশি পানি খাওয়া ঠিক নয়, এবং কীভাবে শরীরকে দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড রাখা যায়।
রোজা রাখার সময় ১২–১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরে বাইরের কোনো পানি প্রবেশ করে না। এ সময় শরীর:
ঘাম
শ্বাসপ্রশ্বাস
প্রস্রাব
এর মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই পানি হারায়।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্ত ঘন হয়ে যেতে পারে, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সঠিকভাবে পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকে সেহরির শেষ ৫–১০ মিনিটে ৩–৪ গ্লাস পানি একসাথে খেয়ে নেন।
বৈজ্ঞানিকভাবে আমাদের কিডনি প্রতি ঘণ্টায় নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি পানি ধরে রাখতে পারে না। শরীর অতিরিক্ত পানি দ্রুত প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।
অর্থাৎ, একসাথে বেশি পানি খেলে তা দীর্ঘ সময় শরীরে জমা থাকে না। বরং অল্প সময় পরই আবার পানিশূন্যতা অনুভূত হতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত পানি দ্রুত খেলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তিও হতে পারে।
হাইড্রেশন একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া। তাই একবারে না খেয়ে পুরো রাত জুড়ে পানি পান করা বেশি কার্যকর।
একটি ব্যবহারিক পদ্ধতি হতে পারে:
ইফতারের পর ১–২ গ্লাস
রাতের খাবারের পর ১–২ গ্লাস
ঘুমের আগে ১ গ্লাস
সেহরিতে ১–২ গ্লাস
এভাবে শরীর ধীরে ধীরে পানি শোষণ করতে পারে।
সেহরিতে পানি খাওয়ার সময়:
একসাথে গিলে না খেয়ে
ছোট চুমুকে
ধীরে ধীরে
পান করা ভালো।
প্রতি গ্লাসের মাঝে ১–২ মিনিট বিরতি দিলে পাকস্থলীর উপর চাপ কম পড়ে এবং শোষণ প্রক্রিয়া উন্নত হয়।
শরীরে পানি ধরে রাখতে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেহরিতে রাখতে পারেন:
দই
কলা
ওটস
অল্প লবণযুক্ত সুষম খাবার
এই খাবারগুলো শরীরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমায়।
চা, কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্ক অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তা মূত্রবর্ধক (diuretic) প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শরীর দ্রুত পানি হারাতে পারে।
একইভাবে অতিরিক্ত মিষ্টি শরবত ব্লাড সুগার দ্রুত বাড়িয়ে পরে হঠাৎ কমিয়ে দেয়, যা ক্লান্তি বাড়াতে পারে।
অত্যন্ত ঠান্ডা পানি দ্রুত পান করলে অনেকের ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি হতে পারে। রুম টেম্পারেচারের পানি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক এবং সহজপাচ্য।
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ২–৩ লিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি নির্ভর করে:
বয়স
ওজন
আবহাওয়া
শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা
রমজানে লক্ষ্য হওয়া উচিত— ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পানি পূরণ করা।
রোজার সময় নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:
মাথাব্যথা
অতিরিক্ত ক্লান্তি
গা শুকনো লাগা
গাঢ় রঙের প্রস্রাব
মাথা ঘোরা
এই লক্ষণগুলো শরীরের পানির ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
রমজানে সেহরিতে পানি খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি হলো—
একসাথে অনেক পানি না খেয়ে, পুরো রাত জুড়ে ভাগ করে ধীরে ধীরে পান করা।
ছোট চুমুকে পানি পান, ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা— এগুলোই দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড থাকার বৈজ্ঞানিক কৌশল।
রোজা শুধু আত্মিক সাধনার সময় নয়— এটি শরীরের যত্ন নেওয়ারও সময়।
সঠিক হাইড্রেশনই হতে পারে সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক রমজানের চাবিকাঠি।